সিরাজগঞ্জ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন নিউজ সাইট

বঙ্গবন্ধু বহুমুখি সেতু

যমুনা সেতু তথা যমুনা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের যমুনা নদীর উপরে অবস্থিত একটি সড়ক ও রেল সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার। এটি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সেতু। ১৯৯৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ইহা যমুনা নাদীর পূর্ব তীরের ভূয়াপুর এবং পশ্চিম তীরের সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করে। এইটি বিশ্বে ১১তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম সেতু।

ইলিয়ট ব্রিজ

ইলিয়ট ব্রিজ সিরাজগঞ্জ শহরের কাটা খালের উপরে লোহা ও সিমেন্টের সমন্বয়ে তৈরী। সিরাজগঞ্জ শহরকে দেখার জন্য কাঁটাখালের উপরে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু করে ইংরেজ এসডিও মিঃ বিটসন বেল আই, সি, এস, সাহেব ১৮৯৫ সনে ৪৫,০০০ টাকা খরচ করে বাংলার তৎকালিন ছোট লাট স্যার আল ফ্রেড ইলিয়ট সাহেবের নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন। নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন।

Tuesday, August 4, 2015

সিরাজগঞ্জে অস্ত্র আটক ২

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে ৩টি বিদেশি
পিস্তল,গুলি,ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ
দুইজনকে আটক করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার ভোরে জামায়াত-
শিবিরের খ্যাত আলোচিত বেলকুচির
কল্যানপুর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর অপরাধ দমন বিশেষ
শাখার অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার
হাসিবুল আলম জানান, গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৩টা থেকে দুই
ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বেলকুচি উপজেলার
কল্যানপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে
ফরিদুল ইসলাম (২৮) এবং মৃত আলতাফ আলীর ছেলে জাক্কু শেখ (৪৫)কে আটক করা হয়। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে ৩টি বিদেশি
পিস্তল, ১৮টি ককটেল, ২টি রামদা, ১টি
ড্যাগার, ৪টি ম্যাগাজিনে ১২ রাউন্ড গুলি, ৮
রাউন্ড শর্টগানের গুলি, একটি চোরাই
মোটরসাইকেল ও ২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার
করা হয়। র্যাব কার্যালয়ে আটককৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ৩৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকবির
ভালবাসার শাহজাদপুরে ২০১৫-১৬
শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে
দেশের ৩৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
“রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়”। ভারতের
শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর আদলে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এটি
প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যে ২৫ বৈশাখ কবির ১৫৪তম
জন্মবার্ষিকীতে ২০১৫ সালের ৮ মে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
করেছেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
নামকরণ: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরন
করা হয়েছে।
ইতিহাসঃ ২০১০ সালের ৮ মে ঢাকার
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যাগ গ্রহণ
করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কুষ্টিয়া অভিবাসী তাদের এলাকায়
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি
জানালেও বর্তমানে সেখানে ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় পরবর্তী সময়ে
আঞ্চলিক বিবেচনায় সিরাজগঞ্জের
শাহজাদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পাখির অভয়ারণ্য গড়ছেন শাহজাদপুরের মামুন-ইমন

গ্রামে আর সন্ধ্যা ঘনাতেই আগের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে নীড়ে ফেরা পাখির দেখা মেলে না।
নিত্য উষায় পাখির কুজনে ঘুম ভাঙে না,
গ্রাম লাগোয়া কাশবনে কিচির-মিচিরও
মিয়ম্রাণ হয়ে আসছে দিন দিন।
কি বুকের ছাতিফাঁটা গ্রীষ্ম, কি ঘোর
বর্ষা, হাঁড় কাপানো শীত কিংবা বসন্ত,
পাখির কলতানে আর মুখরিত হয় না গ্রাম।
আবার কি করে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির
গাছে, বনে কি জঙ্গলে ফিরিয়ে ‍আনা
যায় দোয়েল, কোকিল, ফিঙে, চড়ুই,
টিয়াসহ গ্রাম বাংলার সব পাখিকে।
এমন ভাবনা থেকেই নিজের গ্রামকে
পাখির গ্রাম হিসাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ
নেন গ্রামের দুই যুবক মামুন ও ইমন।
শুরুতেই গ্রামের মুরুব্বিদের
অনেকেই ‍তাদের এ চেষ্টাকে পাগলামি
অভিহিত করেছেন। সমবয়সীরা আড়ালে
টিপ্পনী কেটেছেন, ব্যঙ্গ করেছেন। এখন
তাদের সহায়তাতেই গ্রামকে পাখির
অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তোলার পথে
এগিয়ে চলছেন পাখিপ্রেমী মামুন ও ইমন।
এরইমধ্যে তাদের কাফেলায় পেয়েছেন
পাখিপ্রেমী গ্রামের আরো কিছু তরুণ-
যুবককে।
তাদের লক্ষ্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের
বাহক নানা প্রকার বিলুপ্ত হতে যাওয়া
পাখির জন্য নিরাপদ বাসস্থান তৈরির
মাধ্যমে পাখির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি
এবং গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য
ফিরিয়ে আনা।
এমনই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার
বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী গ্রামে।
পাখিপ্রেমী মামুন ও ইমনের ঐকান্তিক
প্রচেষ্টায় এ গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে
উঠছে পাখির অভয়াশ্রম। নিজেদের
অর্থায়নে ও আরো ৪/৫ জনের সহায়তায়
তারা পাখিদের জন্য জন্য গাছে-গাছে
করছেন পাখির ঘর-সংসার।
এজন্য গত সাড়ে তিন মাসে তারা মোট
২৩৭টি গাছে মাটির কলস বেঁধে
দিয়েছেন। দেশীয় পাখিগুলো যাতে ওই
কলসে নিজ নিজ আশ্রয় খুঁজে নেয়।
এরইমধ্যে এ কাজে বেশ সফলতা অর্জন
করেছেন তারা।
বেশ কয়েকটি মাটির কলসে পাখিরা
এসে বাসা বেঁধেছে। এরই কয়েকটিতে শুরু
হয়েছে প্রজনন প্রক্রিয়াও।
গত ২৯ জুলাই সরেজমিনে আগনুকালী ঘুরে
উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা
বলে এসব তথ্য জানা যায়।
তারা জানান, গ্রামের প্রতিটি রাস্তার
ধারে, পুকুরের পাড়ে, জমির পাশে,
বিভিন্ন বাড়ির গাছের ডালসহ গ্রামের
আনাচে-কানাচের বিভিন্ন গাছের
মগডালে কলস বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ফলে গাছে-গাছে আসতে শুরু করেছে
পাখি।
এছাড়াও আশপাশের লিছিমপুর,
রায়পাড়া, সিকদার পাড়া, মধ্যপাড়া,
সাতবাড়ীয়া, ভেন্নাগাছি, লক্ষ্মীপুরসহ
১০টি গ্রামকেও এর আওতায় এনে গাছে
কলস বেঁধে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ গ্রামের যুবক শাহীন আলম জানান,
প্রথম দিকে গ্রামবাসী এদের পাগল
বললেও এখন সবাই নানাভাবে তাদের
কাজে উৎসাহ দিয়ে সহযোগিতা করছে।
সুজন ও নবী জানান, কিছু কলসে শালিক
পাখি বাসা বেঁধেছে। বেশ কয়টিতে
বাচ্চাও ফুটেও। অন্য প্রজাতির পাখিদের
মধ্যে দোয়েল পাখি ওই কলসে যাতায়াত
করলেও স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধছে না।
একই গ্রামের যুবক কামরুল জানান, প্রথমে
মামুন তার নিজ বাড়ির গাছে পাঁচটি
কলস বাঁধেন। কিছু দিন যেতেই এসব
কলসে আশ্রয় নেয় শালিক পাখি। এ
থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মামুন ও ইমন মিলে শুরু
করেন গ্রামের গাছে কলস বাঁধার কাজ।
কথা হয় এ আন্দোলনের মূল নায়ক মামুন
বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, পাখি
প্রকৃতির অন্যতম সম্পদ। পাখিদের অবাধ
বিচরণ নিশ্চিত করা না গেলে ধীরে
ধীরে সব প্রজাতির পাখিই বিলুপ্ত হয়ে
যাবে।
দেশ থেকে ৪৭ প্রজাতির দেশীয় পাখি
বিলুপ্ত হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি
বলেন, তাই গত বছরের ডিসেম্বর থেকে
গাছে গাছে প্লাস্টিকের বক্স সেট করা
মাধ্যমে পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টির উদ্যোগ
নেই। তবে প্লাস্টিকের বক্সে সফলতা না
পাওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে
মাটির কলস বাঁধার কাজ শুরু করি। শালিক
পাখি বাসা বাঁধলেও অন্যান্য পাখির
মধ্যে দোয়েল আসা যাওয়া করছে। অন্য
জাতের পাখির আবাসস্থল গড়ার
লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
মামুন জানান, পাখি সংরক্ষণ, প্রজনন ও
নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে
’দি বার্ড সেফটি হাউজ’ নামে একটি
সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন
তারা।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি
সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই
বাংলানিউজকে জানান, মামুন নিজ
উদ্যোগে আগনুকালী গ্রামসহ আশপাশের
গ্রামগুলোতে পাখির জন্য আবাস্থল
তৈরি করছেন। এটি মহতী উদ্যোগ। তাকে
উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ
প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার
(ইউএনও) শামীম আহম্মেদ বলেন, পাখির
জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টির ব্যক্তিগত এ
উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে
তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও
অন্যান্য গ্রামেও যাতে এ ধরণের উদ্যোগ
নেওয়া হয় সে জন্য উপজেলা প্রশাসন
থেকে উৎসাহের পাশাপাশি সহায়তাও
করা হবে।

Sunday, August 2, 2015

সিরাজগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে ২ ডাকাত’ গুলিবিদ্ধ

রোববার সকালে উপজেলার ভাটপিয়ারী এলাকায় যমুনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ পরিদর্শক আব্দুল বারিক।
“গুলিবিদ্ধ সদর উপজেলার ভাঙ্গারারচরে নুর ইসলামের ছেলে শাহাদত হোসেন (২২) ও একই এলাকার আয়নাল ডাকাতের ছেলে আবু মোতালেব (২৬)। তাদের পুলিশ পাহারায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
এসআই বারিক জানান, সম্প্রতি যমুনা নদীতে ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। রোববার সকালে পুলিশের একটি নৌকা নদীতে টহল দিচ্ছিল।
“নৌকাটি ভাটপিয়ারী এলাকায় পৌঁছলে যাত্রীবাহী নৌকা মনে করে ৭/৮জন ডাকাতের একটি দল নৌকায় হানা দেয়। এ সময় দুপক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে ডাকাতরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবু মোতালেব ও শাহাদতকে আটক করা হয়।

Saturday, August 1, 2015

সিরাজগঞ্জে হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ ৪ ব্যবসায়ী আটক

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৪৩ গ্রাম
হেরোইন, ১৪ বোতল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির ৩৫ হাজার টাকাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ৠাপিড
অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (ৠাব) সদস্যরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সিরাজগঞ্জ
পৌর এলাকার মাদকপল্লী খ্যাত মাহমুদপুর
মহল্লায় এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- মাহমুদপুর মহল্লার
মো. আব্দুল করিমের স্ত্রী রত্না খাতুন
(২৮), ধানবান্ধী ঢুলিপাড়া মহল্লার মৃত
আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মেহেদী হাসান
মুন্না (৩৬), ঢাকা জেলার বাড্ডা
বাটপাড়া এলাকার যুগের চন্দ্র
রাজবংশীর ছেলে কমলচন্দ রাজবংশী (৩৮)
ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার
মোল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার মৃত
মোহাম্মদ আলীর ছেলে সেলিম হোসেন
(৩৬)।
র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের ক্যাম্প
কমন্ডার এএসপি মো. হাসিবুল আলম
বাংলানিউজকে জানান, গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অলোচিত
মাদক ব্যবসায়ী রত্না খাতুনসহ চারজনকে
আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে
৪৩ গ্রাম হেরোইন, ১৪ বোতল ফেনসিডিল ও
মাদক বিক্রির ৩৫ হাজার টাকা এবং দু’টি
মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়
মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শোকাবহ আগষ্ট কাঁদো বাঙালি, কাঁদো।

বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় শোকবহ
আগস্ট মাস। আগস্ট মানেই জাতির বেদনা
বিধুর শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
রাতে জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করে ঘৃণিত ঘাতকরা।
অকৃতজ্ঞ ঘাতকরা ১৫ আগস্ট কালোরাতে শুধু
বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, ঘৃণ্য নরপশুরা একে
একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম
ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ
কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ
পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে।
জঘন্যতম এই হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে
পারেনি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের,
ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে
যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মণি,
কর্নেল জামিলসহ ১৬ জন সদস্য ও
আত্মীয়স্বজন।
সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা
করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র
শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার
বিষবাষ্প।
শোকের মাসের প্রথম দিন আজ রাত ১২টা ১
মিনিটে শোকের মাসের প্রথম প্রহরে আলোর
মিছিলের মধ্য দিয়ে ৪০ দিন ব্যাপী কর্মসূচির
সূচনা ঘটবে। মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক
ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা
করবে।
এ দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে
দুপুর ১২টায় টুঙ্গীপাড়াস্থ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে
শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত।
বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে রক্তদান কর্মসূচি ও
আলোচনা সভা। বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে
কৃষকলীগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ
ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক সংগঠন শোকের মাসে
বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের নিষ্ঠুরতায়
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে
হারানো শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মধ্য
দিয়ে বাঙালী এগিয়ে যাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে
এটাই আজ শোকের মাসের অঙ্গীকার।
ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাঙালি জাতি
সে নিষ্ঠুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের
মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হলেও ঘাতকদের বিরুদ্ধে
তীব্র ঘৃণার চেতনাকে নতুন করে জাগিয়ে
তোলে এ মাস।

আজ থেকে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে ছিটমহল

৬৮ বছর পর নতুন পরিচয় পেতে যাচ্ছে বাসিন্দারা 'আগত (সামনে) হামরা আর ভারত থাকিল না, হামাক ছিট বাংলাদেশের আর পাঁচটা গ্রামের মতোই থাকিল।
হামাক পোলাপান বাংলাদেশের পরিচয়ে বড় হইল। এই সাইনবোর্ডটাত অগো একখান ছবি ইতিহাস করিয়া লও। আগত অরা বড় হইল আর এই দুখস্মৃতির ছবি দেখিল।' নাটকটোকা ছিটমহলের রুখসানা বেগম উঠানের
মাঝে ধান মেলতে মেলতে গলা বাড়িয়ে এমন
অনুরোধ করেছিলেন। সম্মতি পেয়ে নিজেই
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ডেকেডুকে একটি
সাইনবোর্ডের সামনে নিয়ে আসেন একদল
ছোট শিশুকে। কড়া রোদের মধ্যেই ছবি
তোলা হয় তাদের।
কেবল ওই শিশুরাই নয়, গোটা ছিটমহলবাসীর জন্য সত্যি সত্যিই এক ইতিহাস রচিত হলো। ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হলেও বাংলাদেশের ভেতরে একটি ঘরের
সামনে সাইনবোর্ডে লেখা 'থানা : হলদিবাড়ী,
মহকুমা : মেখলিগঞ্জ, জেলা কোচবিহার'।
বাংলাদেশের ভেতরে থেকেও তারা নিজেদের
বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিতে পারেনি এতকাল। তবে আজ শনিবার বিকেলের পর থেকে 'পরিচয়হীন ছিটমহলবাসী' পরিচয় পাল্টে বাংলাদেশের ভেতরের সব ছিটমহলের বাসিন্দারা পেছনের সবকিছু ঝেরে ফেলে গলা ছেড়ে বলতে পারবে, 'আমরা বাংলাদেশি'। দীর্ঘদিনের মিথ্যার
ওপর ভর করে জীবনযাপনের যাতনা শেষ হচ্ছে
আজ থেকে। এলাকার বাইরে গিয়ে পরিচয় গোপন করে আর তাদের মানবিক-মৌলিক অধিকার আদায়ের চেষ্টা করতে হবে না। আজ শনিবার
বিকেলে ঢাকায় ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা
চুক্তির অনুসমর্থন দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে
ছিটমহলগুলো ঢুকে পড়ছে ইতিহাসের পাতায়।
দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাসের পালাবদল
হয়ে ছিটমহলবাসী আগামী দিনে গল্পের মতো
করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বলতে
পারবে ছিটমহল জীবনের ইতিহাস।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহলের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে
দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির আগে
গোটা উপমহাদেশ শাসন করত ইংরেজরা। ইংরেজ
শাসনামলে ভারতের কোচবিহারের মহারাজা এবং
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রংপুরের মহারাজার
জমিদারি থাকায় তাঁদের জমাজমির খাজনা ইংরেজদের
প্রদান থেকে বিরত থাকে। তাই পাক-ভারত বিভক্তির
সময় গঠিত বাউন্ডারি কমিশন এসব জমি বাদ দিয়েই দুই
দেশের সীমানা নির্ধারণ করে। ফলে তৎকালীন
পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দুই দেশের
মহারাজার ১৬২ জায়গায় জমি থেকে যায়। এর মধ্যে
বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের
কোচবিহার মহারাজের ১১১টি জায়গায় জমি থেকে
যায়। আবার ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের
রংপুরের মহারাজার ৫১টি জায়গায় জমি থাকে। দুই
দেশের মহারাজের ব্যক্তিগত জমি হওয়ার কারণে
কোনো দেশই ওই জমির মালিকানা পায় না।
পরবর্তী সময়ে এসব জমি একেকটি ছিটমহল
হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে
ভারতের ছিটমহলগুলোর অবস্থান হলেও এখানকার
নাগরিকরা হয়ে যায় ভারতীয়। একইভাবে ভারতের
অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোর নাগরিকরাও
বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থেকে যায় ভারতের
অভ্যন্তরে। দেশ বিভক্তির আগে কোচবিহারের
মহারাজার প্রজারা জমি চাষ করে তাঁকে খাজনা দিত।
কিন্তু দেশ বিভক্তির পর ভারত সরকার জমিদারি ও রাজা
প্রথা বাতিল করে দিলে প্রজারা তাদের নিয়ন্ত্রিত
জমির মালিক হয়ে যায়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় কমিটি
বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা
বলেন, '৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির পরই ভারতে
জমিদারি ও রাজা প্রথা বাতিল করে দেয় সরকার। সে
সময় কোচবিহারের মহারাজা ছিলেন শ্রীশ্রী
নারায়ণ ভুগ বাহাদুর। তিনি চেয়েছিলেন তৎকালীন
পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যাওয়া তাঁর সব জমি ও
সেখানে অবস্থানরতদের ভারতের সঙ্গে
থাকতে। কিন্তু তাঁর প্রজারা অধিকাংশই মুসলমান হওয়ায়
তারা পূর্ব পাকিস্তানে থাকার ইচ্ছা পোষণ করে।
মহারাজা নিজে হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তিনি থেকে
যান ভারতে।
ছিটমহল নিয়ে কাজ করা সূত্রগুলোর তথ্য অনুসারে
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চার জেলার মধ্যে পড়ে
কোচবিহার মহারাজার ১১১টি ছিটমহল। এসব
ছিটমহলের মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় পড়েছে
৩৬টি (মূল ১২টি)। এ ছাড়া লালমনিরহাটে ৫৮টি,
কুড়িগ্রামে ১২টি এবং নীলফামারীতে চারটি
ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।
এদিকে কালের কণ্ঠ'র পঞ্চগড় প্রতিনিধি সাইফুল
ইসলাম বাবু জানান, আজ বিকেলে ঢাকায় বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ছিটমহল
বিনিময়ের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় মুখিয়ে
আছে সব ছিটমহলের মানুষ। উৎসব-আনন্দের
প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে জায়গায় জায়গায়।
ঘোষণার পরপরই ছিটমহলে কারো কারো
বাড়িতে ছাগল জবাই, কারো বাড়িতে মিলাদ মাহফিল,
আবার কেউ বা মিষ্টির আগাম অর্ডার দিয়ে
রেখেছে। অনেকে বাড়িতে গোশত-
পোলাওয়ের আয়োজন করেছে। দাওয়াত
দিয়েছে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের।
পঞ্চগড়ের গারাতি ছিটমহলের শালবাগান এলাকার চান মিয়া বলেন, 'হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের ডাবরভাঙ্গা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি ও তাঁদের প্রতিবেশীরা বাংলাদেশি হওয়ায় আমাদের নানা কটাক্ষ করত। এ জন্য ২২ বছর ধরে শ্বশুরবাড়ি যাইনি। ভারতে বিল পাসের পর স্ত্রী হাজেরা ও ছোট সন্তানকে নিয়ে সেখানে যাওয়া শুরু করেছি।'
গারাতি নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান মফিজার রহমান ছিটমহলটিকে ইউনিয়ন ঘোষণার দাবি জানিয়ে বললেন, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদের
আদলেই এখানে ভোট হয়। প্রতিনিধি নির্বাচিত বা
মনোনীত করা হয়। এ জন্য উন্নয়নের মূল
স্রোতে নিয়ে যেতে ছিটমহলটিকে ইউনিয়ন
ঘোষণার বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ
করেন। তিনি বলেন, 'ছিটমহল বিনিময়ের চূড়ান্ত
ঘোষণা ভালো-মন্দ যেভাবেই হোক না কেন
সেটা উদ্যাপনে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।'
নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ছিটমহলের অনেক ছেলেমেয়ে বাংলাদেশি ঠিকানা দিয়ে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষা নিয়েছে।
কিন্তু ছিটমহলের নাগরিক হওয়ায় তারা ভালো
কোনো চাকরি পায়নি।
চেয়ারম্যানের নিজের ছেলে সফিউল ইসলাম
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেও চাকরি না
পেয়ে চাষাবাদ ও ছোটখাটো ব্যবসায় জড়িত
হয়েছেন জানিয়ে বলেন, 'এখন মিথ্যা ও
লুকোচুরির দিন শেষ হয়ে এসেছে। এখন
আমাদের ছেলেমেয়েরা যোগ্যতা অনুযায়ী
কাজের সুযোগ পাবে।'
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি ময়নুল হক বলেন, 'কোন শর্তে ও প্যাকেজে ছিটমহল বিনিময় হচ্ছে সেদিকে আমরা নজর রাখছি।
আমাদের দাবি, ছিটমহলের নাগরিকদের যেভাবে
সহজে নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় সেই পন্থা অবলম্বন করা হোক।'
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও
সমন্বয় কমিটির সহসভাপতি আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে বলেই বাজেটে দুই শ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অবশ্যই ছিটমহলবাসীর জীবনমান
উন্নয়নে তাদের পরামর্শেই সরকার সার্বিক
পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।