সিরাজগঞ্জ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন নিউজ সাইট

বঙ্গবন্ধু বহুমুখি সেতু

যমুনা সেতু তথা যমুনা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের যমুনা নদীর উপরে অবস্থিত একটি সড়ক ও রেল সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার। এটি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সেতু। ১৯৯৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ইহা যমুনা নাদীর পূর্ব তীরের ভূয়াপুর এবং পশ্চিম তীরের সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করে। এইটি বিশ্বে ১১তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম সেতু।

ইলিয়ট ব্রিজ

ইলিয়ট ব্রিজ সিরাজগঞ্জ শহরের কাটা খালের উপরে লোহা ও সিমেন্টের সমন্বয়ে তৈরী। সিরাজগঞ্জ শহরকে দেখার জন্য কাঁটাখালের উপরে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু করে ইংরেজ এসডিও মিঃ বিটসন বেল আই, সি, এস, সাহেব ১৮৯৫ সনে ৪৫,০০০ টাকা খরচ করে বাংলার তৎকালিন ছোট লাট স্যার আল ফ্রেড ইলিয়ট সাহেবের নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন। নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন।

Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Wednesday, April 12, 2017

সিরাজগঞ্জ যুবলীগের সম্মেলন স্থগিত, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

সিরাজগঞ্জ: জেলা যুবলীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। আগামী (১৫ এপ্রিল) শনিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বুধবার বিকেলে সম্মেলন স্থগিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি মঈনুদ্দিন খান চীনু।

তিনি জানান, বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মোবাইল ফোনে অনিবার্য কারণবশত এ সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

ইতোমধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছিলো। আজকে চলছিলো মঞ্চ তৈরির কাজ। সম্মেলন ঘিরে জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় উৎসক মুখর পরিবেশ ছিলো দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। সম্মেলন স্থগিতের ঘোষনায় তাদের মাঝে হতাশা লক্ষ করা গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানান, সর্বশেষ ২০০৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ ১০ বছর পর গত বছর দু’দফায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগমুহূর্তেই ওই সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।  বার বার সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Wednesday, October 26, 2016

আলহাজ্ব মোহাম্মাদ নাসিম পুনরায় প্রেসিডিয়াম সদস্য : উৎফুল্ল সাধারন নেতাকর্মীরা।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নাসিম পুনরায় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং
জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যও নির্বাচিত করায় : উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমকে রাখায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী।

মোহাম্মদ নাসিম বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গন-মাঠ-ময়দানে বক্তৃতা ও বিবৃতি সমানতালে দিয়ে নিজের অবস্থান তিনি ধরে রেখেছেন। এছাড়াও ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে মিডিয়ার সামনে দলের নীতি ও আদর্শ তুলে ধরছেন। তার সেই মেধা ও পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এবারো পুনরায় প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যমুনার পাড় ভাঙা জেলা সিরাজগঞ্জ। এ জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি মোহাম্মদ নাসিমের ওপর নির্ভর করে। যতো বাধা বিপত্তি আসুক না কেন তিনি নেতাকর্মীদের আগলে রাখবেন অভিভাবকের মতো। জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত মোহাম্মদ নাসিম রয়েছেন নেতাকর্মীদের হৃদয়জুড়ে।

জানা যায়, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) ও তার জন্মভূমি সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসন থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

তিনি ’৯৬ সালের আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে স্বরাষ্ট্র, ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থায় মোহাম্মদ নাসিম গ্রেফতার হন। তার মুক্তির দাবিতে সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক আন্দোলন করেন। প্রায় ২ বছর কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দায়িত্ব পালনে সিরাজগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আধুনিক সিরাজগঞ্জ গঠনে মোহাম্মদ নাসিমের অবদান চোখে পড়ার মতো। দলমত নির্বিশেষ সকল মানুষের কাছে জনপ্রিয় মোহাম্মদ নাসিম। সদ্য নবগঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ নাসিমকে পুনরায় নির্বাচিত করায় দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি জেলার সাধারণ মানুষও খুশি।

যুবলীগ নেতা রাশেদ ইউসুফ জুয়েল জানান, মোহাম্মদ নাসিমের বিকল্প নেই। তিনি এই অঞ্চলের অভিভাবক। রাজনীতিতে অভিভাবকের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আমাদের অভিভাবক। প্রেসিডিয়াম সদস্য ছাড়াও মোহাম্মদ নাসিমকে জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যও নির্বাচিত করা হয়েছে। এ জন্য সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলাম জেহাদ জানান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর সুযোগ্য ছেলে মোহাম্মদ নাসিমকে পুনরায় প্রেসিডিয়াম সদস্য করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

Tuesday, August 9, 2016

৬ সদস্য দিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রায় দেড় বছর যাবৎ মাত্র ছয় সদস্য দিয়ে ধীর গতিতে চলছে জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরে পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নতুন নেতৃত্বে আসতে না পারায় দলীয় কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কর্মীরা।
ইতোমধ্যে অনেকের ছাত্রত্বের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে রাজনীতিতে থাকা না থাকা নিয়ে হতাশা কাজ করছে। এছাড়াও চৌহালী উপজেলা ছাত্রলীগ ১৮ বছর আগের কমিটি দিয়ে চলছে। তাড়াশ, এনায়েতপুর, কাজিপুর ও সলঙ্গা থানা ছাত্রলীগের কমিটিও প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর আগে গঠন করা হয়েছিল। এ অবস্থায় অবিলম্বে জেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ মে শহরের এম মুনসুর আলী অডিটোরিয়ামে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রথম পর্ব শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু কাউন্সিলর লিষ্ট প্রস্তুত না থাকায় গোপন ব্যালটে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতারা প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে ঢাকায় চলে যান। ওই সময় সভাপতি পদে জাকিরুল ইসলাম লিমন, শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ সাদি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একরামুল হক, সৌরভ তালুকদার ও মন্ডল মোহাম্মদ শামিম প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন।
পরে একই মাসের ২০ তারিখ রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ৬ সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেন এবং এক মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলেন। কিন্তু প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় পদ বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নেতৃত্বে আসতে পারবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। দলের কার্যক্রমে অনিহা প্রকাশ করছেন তারা। জেলা ছাত্রলীগই নয় চৌহালীতে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত কাউন্সিল হয় না। এছাড়াও তাড়াশ,এনায়েতপুর, কাজিপুর, তাড়াশ ও সলঙ্গা থানা ছাত্রলীগেরও প্রায় ৫ বছর যাবৎ সম্মেলন হচ্ছে না। চৌহালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফারুক সরকার এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এখন ঢাকায় বসবাস করছেন। উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির আহবায়ক আশিক সরকার এখন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ে কর্মীরা হতাশা হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাইয়ুম আহম্মেদ পান্নাসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, কমিটি পূর্নাঙ্গ না হওয়ায় নেতা কর্মীদের মনোব ভেঙ্গে পড়েছে। তাদের অভিযোগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার কারণে কমিটি গঠন হচ্ছে না।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক জানান, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম লিমন জানান, ভাল ছেলেরা যাতে ছাত্রলীগে স্থান পায় সে জন্য আগ্রহীদের বায়োডাটা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তবে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, শিবির বা অনুপ্রবেশকারী কোন ছেলে ছাত্রলীগে যেন স্থান না পায় সে জন্য যাচাই-বাছাই করতে দেরী হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার হবে বলে এই ছাত্র নেতা জানান। তিনি আরও জানান, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পরই প্রতিটি উপজেলা ও সকল ছাত্রলীগের ইউনিট ঢেলে সাজানো হবে।

Sunday, August 9, 2015

'ধর্মের নামে রক্তপাত চলতে দেওয়া হবে না'

বাংলাদেশে ধর্মের নামে রক্তপাত ও মানুষ হত্যা
চলতে দেওয়া হবে না। যারা ধর্মকে ব্যবহার
করে অপকর্ম করছে তাদেরও রেহাই দেওয়া
হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। সারাদেশে শিশু নির্যাতনকারীদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ
দেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে
ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৫তম জন্মবাষির্কীর
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা
বলেন।
ব্লগার হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা
বিশ্বেই জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চলছে । এর ধাক্কা
আমাদের এখানেও মাঝে মাঝে লাগে। সৌদি
আরবে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় বোমা হামলা
করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আমাদের এখানে
ধর্মের নামে ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা
কোন ধর্মে আছে? যারা মানুষ হত্যা করে
ইসলামকে কলুষিত করে তারা মুসলমান হতে পারে
না। প্রকৃতপক্ষে তারা কোনও ধর্মে বিশ্বাস করে
না। বাংলাদেশে ধর্মের নামে রক্তপাত চলতে
দেওয়া হবে না।
শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া
হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিশু
নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
হবে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,
আইনমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের অপরাধী ধরতে নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। খুব শিগগিরই অপরাধীদের আইনের
আওতায় আনা হবে। কোনও শিশু নির্যাতনকারীই রেহাই পাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অদ্ভুত
চরিত্র। একজন মা-বাবা একজন শিশুকে কীভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে? আমার বুঝে আসে না।
মায়ের জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মায়ের জন্মদিন
জেনেছি দাদার কাছ থেকে। তার কাছে কাবিননামা ছিল। সেখান থেকে আমরা মায়ের জন্মদিন জেনেছি। আগে জন্মদিন নিবন্ধন করা ছিল না।
আমরা ১৯৯৬ তে ক্ষমতায় আসার পর নিবন্ধন
প্রক্রিয়া শুরু করি।
তিনি বলেন, আমার মা রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ছিলেন। আমার বাবা জেলে থাকলে মা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে খোঁজ নিতেন, সাহায্য করতেন। তিনি বাজারের টাকা দিয়ে নেতাকর্মীদের সাহায্য করতেন। এভাবে তিনি দলের জন্যও ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

Thursday, July 30, 2015

প্রভাবশালীদের কেন্দ্র করে দুটি বলয়ে বিভক্ত দল

প্রায় এক দশক পর গত ৮ জানুয়ারি
সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের
সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে সমঝোতার
মাধ্যমে কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
নির্বাচন করা হয়। এরপর গত সাত মাসেও আর
পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের
সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রভাবশালী
নেতাদের কেন্দ্র করে এখানকার আওয়ামী
লীগের রাজনীতিতে দুটি বলয় তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে একটি বলয় গড়ে উঠেছে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে কেন্দ্র
করে। তাঁর সঙ্গে আছেন জেলা কমিটির
সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা
চেয়ারম্যান এ এম গোলাম কিবরিয়া। অপর
বলয়ের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হলেন সিরাজগঞ্জ-২
(সদর-কামারখন্দ) আসনের সাংসদ হাবিবে
মিল্লাত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়। তাঁর
সঙ্গে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের
সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। সাবেক
মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাস এখন জেলা পরিষদের
প্রশাসক।
দুই পক্ষই জেলার রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠা ও সংগঠনকে কবজায় রাখতে
সচেষ্ট রয়েছে। দুই পক্ষই চায় নিজ নিজ
বলয়ের নেতাদের কমিটিতে ঢোকাতে। এ
নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে পূর্ণাঙ্গ
কমিটি করার কাজ আটকে আছে বলে
অভিযোগ আছে।
যদিও লতিফ বিশ্বাস দাবি করেন, স্থানীয়
নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে ধারণা নিতে একটু
সময় লাগছে। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে
দেরি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের
সঙ্গে আলোচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। তিনি দাবি করেন,
জেলা আওয়ামী লীগে নেতাদের মধ্যে
কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে প্রতিযোগিতার
প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নেতা-কর্মীদের
কারও মধ্যে যদি দ্বন্দ্ব থেকেও থাকে, তার
কোনো বহিঃপ্রকাশ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের
কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, মোহাম্মদ
নাসিম ও হাবিবে মিল্লাতের মধ্যে
প্রকাশ্যে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকলেও দলে
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজনের মধ্যে ঠান্ডা
লড়াই চলছে। এ কারণে নেতা-কর্মীরাও দুটি
ধারায় বিভক্তি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়ভাবে প্রচার আছে যে পরবর্তী
নির্বাচন সামনে রেখে মোহাম্মদ নাসিম
তাঁর বড় ছেলেকে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-
সদর আংশিক) আসনে এবং নিজেকে
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনে প্রতিষ্ঠিত করার
জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সাংসদ
হাবিবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়
হওয়ায় তাঁকে কোণঠাসা করা কষ্টসাধ্য হয়ে
পড়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে
মোহাম্মদ নাসিম প্রার্থী হতে না পারায়
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে তাঁর ছেলে তানভীর
শাকিল ওরফে জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন
নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। এ আসন থেকে
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের
মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন মোহাম্মদ
নাসিম।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য
যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোর সঙ্গে
কথা বলতে চাননি মোহাম্মদ নাসিম। তাঁর
ঘনিষ্ঠ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক এ এম গোলাম কিবরিয়া দাবি
করেন, জেলার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে
রাজনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ে কোনো দ্বন্দ্ব
নেই। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা বিতর্ক
রয়েছে।
হাবিবে মিল্লাতও দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে
অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল বা বিভেদ
নেই। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে
পারে। এটা থাকা স্বাভাবিক। তিনি
অভিযোগ করেন, এলাকার রাজনীতিতে
দীর্ঘদিন ধরে গঠনতান্ত্রিকভাবে অযাচিত
হস্তক্ষেপ প্রথা চালু রয়েছে। এ প্রক্রিয়া দল
ও এলাকার জন্য ক্ষতিকর।

Monday, July 27, 2015

প্রসঙ্গ: নারী উন্নয়ন ও স্বাধীনতা

আফরিন নুসরাত॥
১. ইদানিং কি এক অভ্যাস হয়েছে, ক্ষুধা
সহ্যই করতে পারি না; ক্ষুধা লাগলে আমার
রাজ্য অন্ধকার হয়ে আসে! রাত বাজে তখন
তিনটা। ক্ষুধায় হাত-পা ঠাণ্ডা, সেই সঙ্গে
মাথা ঘোরা। রুমেও খাবার কিছু নেই!
জামাই কে ডাকলাম, চলো বাইরে যাই, কিছু
কিনে আনি! সে ঘুমের মধ্যে হাত দিয়ে
ইশারা করে আমাকে একাই যেতে অনুরোধ
করল। আমি আর কথা না বাড়িয়ে দিলাম
দৌড় খাবারের সন্ধানে ! যেখানে অবস্থান
করছিলাম তার ৩০০ গজ দূরেই একটা
রেস্টুরেন্ট খোলা ছিল। সেখানে যা ছিল,
তা দিয়েই পেট পুরে খেলাম। খাওয়ার পরে
একটু হাঁটতে ইচ্ছে হলো। কিছুটা ঘুরপথ ধরে
রাতের নিস্তব্ধ রাস্তা ধরে হেঁটে রুমে
ফিরছিলাম! এমন মধ্যরাতে আমার আর
কোনওদিন এভাবে বের হওয়া হয়নি।
হাঁটিওনি কোনওদিন একা এভাবে। ভালোই
লাগছিল নতুন এক উপলব্ধিতে গা ভাসাতে।
ঢাকার রাস্তায় ঘোরা অভ্যস্ত আমার
চোখদু’টো কিছুটা দ্বিধামিশ্রিত অভ্যাসেই
দেখছিল আশপাশটা। বেশ কিছু রাতজাগা
মানুষ, কাজ থেকে ঘরমুখো মানুষের দল। অথচ
তাদের কোনও মনোযোগই নেই আমার দিকে!
মুচকি হেসে ভাবলাম, আমি অদৃশ্য হয়ে
গেলাম নাকি? কেউ আমার দিকে লোলুপ
দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে না কেন! কেন কোনও
মানুষরূপী হায়েনা আমার দিকে তেড়ে
আসছে না! আমার পরিধেয়কে কুটিকুটি করে
ছিড়ে কেন আমাকে ধুমড়ে মুচড়ে ফেলতে
বাড়িয়ে দিচ্ছে না কোনও কালো থাবা!
পরোক্ষণেই আমি সন্বিৎ ফিরে পেলাম।
অনুভব করলাম, আমি দৃশ্যমানই রয়েছি এবং
মধ্যরাতেই রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছি!
বোধের সংমিশ্রনগুলো সারাদেহে এক
ভালো লাগার আবেশে জুড়িয়ে গেল। প্রিয়
পাঠক, অবাক হলেন নিশ্চয়ই? অবাক হওয়ারই
কথা! অভিজ্ঞতাগুলো গত ফেব্রুয়ারিতে
সিঙ্গাপুরে সফরের সময়ের। পৃথিবীর অন্যতম
নিরাপদ শহরগুলোর একটি!
২. এইতো কিছুদিন আগের কথা, সপ্তাহ
খানেক হবে হয়ত! রাস্তার পাশ ঘেঁষে ল্যাব
এইডে যাচ্ছিলাম সন্ধ্যার দিকে! আইডিয়াল
কলেজের সামনের দিকের রাস্তাটা বেশ
ফাঁকা, গায়ের ভেতরে কেমন যেন শিউরে
উঠলো যখন দেখলাম একটি ছেলে প্রায়
গায়ের ওপর এসে পড়ছে! ঘুরে বললাম, 'এই
ছেলে কী সমস্যা?' ছেলেটা অপ্রস্তুত হয়ে
বলল, 'না আপু, আমার বই পড়ে গেছে, আপনার
পায়ের কাছে, সরি!' দেখলাম সত্যি তাই!
পরে বললাম ‘ইটস ওকে’! ছেলেটি বই তুলে
পাশ কাটিয়ে মাথা নিচু করে চলে যাওয়ার
পর ভাবলাম, অল্প কিছু মানুষের জন্য আমরা
কত মানুষকেই না ভুল বুঝি এবং কত ছেলেই
তাতে বিব্রত হয়!
৩. এভাবে হঠাৎ আঁতকে ওঠার কিন্তু যথার্থ
কারণ আছে। কিছুদিন আগের ঘটনা। রাস্তা
থেকে একজন তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে
নিয়ে ধর্ষণ করেছে একদল নরপিশাচ! তারও
আগে টিএসসিতে দিন দুপুরে নিপীড়িত
হয়েছেন কিছু নারী। একদল শুয়োর দলবেঁধে
ভিড়ের ভেতর হেঁটে বেড়ায় নারীর শরীর
স্পর্শ করার জন্য। বিভিন্ন মার্কেটে,
পাবলিক বাসে অথবা উৎসবে ওরা ওঁত পেতে
থাকে! এদের মনের কালো কুৎসিত
জানোয়ারটা নিজের আঙ্গুলি শাণিত করতে
থাকে নারীর শরীরকে ছিন্নভিন্ন করার
জন্য! অথচ এরা কি কখনও নিজের শরীরকে
এমন লণ্ডভণ্ড করেছে? কখনও কি ভেবেছে
এমনটায় তাদের মনের ওপর কি বাজে
ভয়ানক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়!
নারী নিপীড়ন আর ধর্ষণের মতো অভিশাপ
থেকে আমরা মুক্তি চাই। অনেকের কাছে
হয়ত আমার এই মুক্তির আরজিটি দুর্বল মনে
হতে পারে! আমি এমন ঘটনায় কেন পাল্টা
আঘাতের কথা না বলে শুধু এর থেকে মুক্তি
চাচ্ছি, যা অনেকের কাছে বোধগম্য না-ও
হতে পারে! সেক্ষেত্রে আমি বলব,
অপরাধীর শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি
আমাদের সমাজের এই অপকর্মগুলোর শেকড়
খুঁজতে হবে! কেন এই সমস্যাগুলো হচ্ছে?
নারীর প্রতি কেন তাদের এই আক্রোশ?
তাদের বেড়ে ওঠা, ধ্যান-ধারণা, চিন্তার
পরিধি, সব কিছু নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে
হবে! এক কথায় তাদের নৃতাত্ত্বিক
বৈশিষ্ট্যগুলোকে খুঁজে বের করে এই
সমস্যাগুলোর পেছনের কারণকে সামনে
আনতে হবে। গোড়া থেকেই এগুলো নির্মূল
করে ফেলতে হবে! এই প্রক্রিয়া যদিও খুব
দ্রুত কাজে দেবে না, কিন্তু আমাদের কন্যা
অথবা তৃতীয় প্রজন্ম সেই অভিশাপ থেকে
মুক্তি পাবে!
Rome wasn't built in a day! এই প্রবাদটি
আমাদের সবার জানা! আমরা অল্পতেই
সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ নগরী পাব না।
সেজন্য আমাদের দীর্ঘ পথ চলতে হবে!
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত
জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আধুনিক
একটি রাষ্ট্রের, স্বাবলম্বিতার, পশ্চাৎপদ
জনগোষ্ঠী এবং নারীদের অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করতে গড়ে তুলেছিলেন কোটা
ব্যবস্থা ! কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই
কলঙ্কিত রাতেই আমাদের আরও ১০০ বছর
পিছিয়ে নিল! তারপর বারবার সামরিক
শাসন আর সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ
রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, আমাদের
নারীসমাজকে শেকলের শৃঙ্খলে যখন
জড়িয়ে ফেলেছিল, তখন আবার আমাদের
নতুন করে মুক্তির পথ দেখালেন বঙ্গবন্ধু
কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা! সম্প্রতি
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসে নারীর
ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন যা বিশ্ব
দরবারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনন্য
স্থানে পৌঁছে দিয়েছে! নারীর ক্ষমতায়নে
তিনি এখন বিশ্বে রোল মডেল!
তিনি নারীর ক্ষমতায়নকে অধিকতর
শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় সংসদে
সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৫০টি
করেছেন। জাতীয় নির্বাচনগুলোয়
নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাও
মোট আসনের ২০% হারে নিশ্চিতভাবে
বেড়েছে। রাজনীতিতে নারীদের
অংশগ্রহণের সুযোগবৃদ্ধির জন্য ইউনিয়ন
কাউন্সিল, উপজেলা পরিষদ এবং
মিউনিসিপ্যালিটিগুলোয়ও সংরক্ষিত নারী
আসন সংখ্যা মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ
বাড়ানো হয়েছে এবং পাশাপাশি এসব
আসনে নারীরা সরাসরি নির্বাচন করারও
সুযোগ পাচ্ছেন।
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ সরকারের
একটি সফল ও উল্লেখযোগ্য নীতি, যেখানে
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারীর সম্পদের
সমান অধিকারসহ ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমান
সুযোগের সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে
সহিংসতা দমনের জন্য সরকার পারিবারিক
সহিংসতা (প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা) বিধি
২০১৩ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি দেশের
৭টি বিভাগে ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’-
এর ব্যবস্থা করেছে, যেখানে নারী বিনা
পয়সায় চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পলিসি
সহায়তা এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসন সেবা
দিয়ে যাচ্ছে। লিঙ্গ সম্পর্কিত অপরাধ,
যেমন ধর্ষণের কার্যকর তদন্তের জন্য
ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি
কিছু জাতীয় হাসপাতালে ডিএনএ
প্রোফাইলিং ল্যাবের পাশাপাশি ডিএনএ
স্ক্রিনিং ল্যাবও স্থাপন করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার নারীদের পুনর্বাসন আরও
সহজতর করতে দুস্থ সহায়তা কেন্দ্রগুলোয়
প্রশিক্ষিত এবং পেশাদার নারী
অফিসাররা পরিচালনা করছেন। নারী ও
শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এখন একটি ‘হেল্প
লাইন’ (১০৯২১) খুলেছে, যেখান থেকে
সহিংসতায় আক্রান্তরা সহজেই বিভিন্ন
আইনি, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পরামর্শ
সহায়তা নিতে পারবেন।
উন্নয়নের কবি শেখ হাসিনা নারীদের
সামনে এগিয়ে আনতে এবং নারীর সমান
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারীদের
যোগ্যতা অনুসারে তাদের বিভিন্ন উচ্চপদে
নিয়োগ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের যে
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটা
পৃথিবীতে প্রায় নজিরবিহীন! এত কিছুর
পরও আমাদের যেসব অপ্রীতিকর ঘটনার
সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তারও নানাবিধ কারণে
রয়েছে!
বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিস্তার হয়
সমাজের বিভিন্ন অবক্ষয়ের কারণে। যার
পরিধি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ হয়ে
রাষ্ট্র পর্যন্ত ছড়ায়। সুতরাং প্রতিটি
অবক্ষয়েরই একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে,
আছে স্বকীয়তাও। সেগুলোকে খুঁজে বের
করতে হবে। গবেষণা করে বের করতে হবে
এর উৎপত্তি স্থল আর কারণগুলো। রোগ
নির্ণয় না করে যেমন ওষুধ প্রয়োগ করা
বোকামি, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়ের
কারণ এবং তার উৎপত্তিস্থল খুঁজে না
পেলে, সাময়িক এক-দুটা সমস্যার সমাধান
হয়ত করা যাবে, কিন্তু তার সম্পূর্ণ নির্মূল
করা যাবে না। মাঝে মাঝেই তা স্ববেগে
মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।আমাদের ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং সুস্থ্
মানসিক-ভারসাম্যপূর্ণ দেশ গড়তে এই
চ্যালঞ্জের মুখোমুখি আমাদের হতে হবে
এবং এর প্রতিকারে অনাবিল কাজ করে
যেতে হবে।
আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর
প্রাথমিক ধাপের বইগুলোতে সাধারণত
দেখানো হয় মায়েরা গৃহস্থালি কাজ
করছেন, বাবা বাগানের আবর্জনা
পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত থাকছেন!
মায়ের কাজ হিসেবে সেখানে উল্লিখিত
থাকে রান্নাবান্না, কাপড় ও বাসনপত্র
ধোয়া, সেলাইকাজ, সন্তান লালনপালনসহ
গৃহের বিবিধ কাজ। আর বাবার কাজের
তালিকায় থাকে চাকরি বা ব্যবসা থেকে
অর্থ উপার্জন করা, বাজার করা, সন্তানদের
শাসন করা,পরিবারের সকল কাজে তার
মতামতের প্রাধান্য দেওয়া ইত্যাদি।
এক্ষেত্রে শিশুদের মনোজগতে ছোট থেকেই
এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, বাবা বাইরের কাজ
করবেন এবং পরিবারের একক ক্ষমতার
অধিকারী হবেন। আর মা ঘরের ভেতরের
কাজ করবেন এবং বাবার সকল সিদ্ধান্তের
আজ্ঞাবহ হবেন!
কিন্তু এই ঘটনার ঠিক উল্টো করে দেখলে
অথবা মা-বাবা এক সাথে বাগানের কাজ
করছেন বা ঘরের বাসনপত্র একসঙ্গে
পরিষ্কার করছেন, একসঙ্গে চাকরি অথবা
ব্যবসা করছেন, পরিবারে দুজন মিলে
সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাহলে সেটার প্রভাব
অন্যরকম হতো! সেক্ষেত্রে শিশুটির
ছোটবেলা থেকেই একসাথে কাজ করার
মানসিকতা তৈরি হতে পারত এবং কাজের
ক্ষেত্রে যে কোনও জেন্ডার নেই, সেই
ধারণা বা বিশ্বাসে পরিণত হয়ে বন্ধুত্বের
সহজাত প্রবৃত্তিতে রুপান্তরিত হতো! কমে
যেত অপরাধ প্রবণতা।
এক্ষেত্রে আমাদের কারিকুলাম প্রণেতারা
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে,
আমরা একটি সুস্থ্ চিন্তাধারার প্রজন্ম
পেতে পারতাম! বাচ্চাদের সঙ্গে
প্রাসঙ্গিক সব বিষয়েই খোলামেলা কথা
বলা উচিত এবং এ ব্যাপারে পরিবারের
সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে নারীর
প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মানবোধও শিশুদের
স্বভাবজাত চিন্তা বা প্রবৃত্তির মধ্যে
পড়বে। বৈষম্য বিষয়টি সম্পূর্ণ মানসিক, সেই
মানসিক বৈকল্য দূর হবে!
আশার বাণী যে, আগামী অর্থবছরের
প্রস্তাবকৃত বাজেটে নারী উন্নয়নের
বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা
হয়েছে! অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর
অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে দেশের উৎপাদন
সম্ভাবনা বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব বলে
বাজেট বক্তৃতায় মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী
আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০২১ সালের মধ্যে
শতকরা ৫০ ভাগ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত
করতে নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
সংক্রান্ত সকল প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করা
হচ্ছে বাজেটে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে
গ্রহণ করা হচ্ছে নানামুখী কার্যক্রম।
তৃণমূল নারীদের বাণিজ্যিকভাবে পণ্য
উৎপাদন ও বিপণনের জন্য জয়িতা
ফাউন্ডেশন কাজ করছে। এ বছর এই
কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বিভাগীয়, জেলা ও
উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা হবে।
নারীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষি ও
পল্লিঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে
ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসহায়-
অবহেলিত-প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক
নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা,
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি
সহিংসতা রোধে সরকার বৃহত্তর পরিসরে
কাজ করছে। এছাড়া নারীদের ড্রাইভিং,
ক্যাটারিং প্রশিক্ষণসহ আইসিটি সেক্টরেও
কাজের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করা হবে বলে
ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সর্বোপরি নারী উন্নয়ননীতি ২০১১
বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের
লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। আমাদের হয়তো আর খুব
বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না, যেদিন
আমাদের মেয়েরা সিঙ্গাপুরের মতো
বাংলাদেশেও নিরাপদে রাতের পথে
নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারবে!
লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয়
কার্যনির্বাহী সংসদ, বাংলাদেশ
ছাত্রলীগ